ডায়াবেটিস নিয়ে সব সমস্যা সমাধান।

ডায়াবেটিস কি :

ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। এই রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়। সুস্থ লোকের রক্তে প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৫.৬ মিলি মোলের কম এবং খাবার দুই ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম থাকে। অভুক্ত অবস্থায় রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.১ মিলি মোলের বেশি হলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোলের বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।

ডায়াবেটিস কেন হয়:

আমরা যখন কোন খাবার খাই তখন আমাদের শরীর সেই খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে চিনিতে (গ্লুকোজ) রুপান্তরিত করে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামের যে হরমোন নিসৃত হয়, সেটা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে নির্দেশ দেয় চিনিকে গ্রহণ করার জন্যে। এই চিনি কাজ করে শরীরের জ্বালানী বা শক্তি হিসেবে। শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে না পারে অথবা এটা ঠিক মতো কাজ না করে তখনই ডায়াবেটিস হয়। এবং এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে।
রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি হলে রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শরীরে যদি রক্ত ঠিক মতো প্রবাহিত হতে না পারে, যেসব জায়গায় রক্তের প্রয়োজন সেখানে যদি এই রক্ত পৌঁছাতে না পারে, তখন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে মানুষ দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে। ইনফেকশন হতে পারে পায়ে। অন্ধত্ব, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির পেছনে একটি বড় কারণ ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিস লক্ষণ:

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  •  খুব বেশি পিপাসা লাগা
  • বেশি ক্ষুধা পাওয়া
  •  যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
  • . ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা
  •  ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
  •  খোস-পাঁচড়া, ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া
  •  চোখে কম দেখা।

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় উপায়

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার ঐনঅ১প% পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৬.১ মিলি মোলের কম এবং খাবার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোলের কম থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.০ মিলি মোল বা তার বেশি হলে এবং খাবার খাওয়ার অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোল বা তার বেশি হলে অথবা রক্তের ঐনঅ১প ৬.৫%-এর বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ ও তাদের পার্থক্যসমূহ
টাইপ-১, ২. টাইপ-২, ৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। ৪. অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক শ্রেণী।
টাইপ-১
এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না। সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতেই হয়। অন্যথায় রক্তের শর্করা অতি দ্রুত বেড়ে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে অম্লজাতীয় বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
টাইপ-২
এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ত্রিশ বছরের ওপরে হয়ে থাকে। আজকাল ত্রিশ বছরের নিচেও এ ধরনের রোগীর সংখ্যা দেখা দিচ্ছে ও দিনে দিনে বেড়ে চলছে। এদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। তবে, প্রয়োজনে ইনসুলিন ইনজেকশন না দিলে টাইপ-১ রোগীর মতো এদের বিষক্রিয়া হয় না। অর্থাৎ এরা ইনসুলিন নির্ভরশীল নয়। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়ামের সাহায্যে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
অনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আবার প্রসবের পর ডায়াবেটিস থাকে না। এই প্রকার জটিলতাকেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবতী মা ও গর্ভবতী শিশু উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক।
অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক শ্রেণী
ক. জেনেটিক কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হওয়া।
খ. জেনেটিক কারণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া।
গ. অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ।
ঘ. অন্যান্য হরমোন আধিক্য
ঙ. ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণসমূহ
যে কেউ যে কোনো বয়সে যেকোনো সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নিম্নোক্ত শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে:
ক. যাদের বংশে বিশেষ করে বাবা-মা বা রক্ত সম্পর্কিত নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে।
খ. যাদের ওজন অনেক বেশি ও যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করেন না।
গ. যারা বহুদিন ধরে কর্টিসোল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন।
ঘ. যেসব মহিলার গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ছিল আবার যেসব মহিলা ৯ পাউন্ডের বেশি ওজনের বাচ্চা প্রসব করেছেন।
ঙ. যাদের রক্তচাপ আছে এবং রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকে।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়ঃ

সাধারণত কোন খাবার গ্রহণ করার পর আমাদের শরীর সেই খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে গ্লুকোজে রুপান্তরিত করে। এরপর অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামের যে হরমোন নিসৃত হয়, সেটা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে গ্লুকোজকে গ্রহণ করার জন্যে নির্দেশ দেয়। এই গ্লুকোজ শরীরের জ্বালানী বা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
কিন্তু শরীরে যখন ইনসুলিন ঠিকমতো তৈরি হতে না পারে তখন ডায়াবেটিস হয় এবং এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে।
কিন্তু কি কি কারণে ডায়াবেটিস হয়? সাধারণত আমাদের ডায়াবেটিস হওয়ার পেছনে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন অভ্যাস দায়ী।
ব্যায়াম না করা: টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার অন্যতম কারণ হল শারীরিকভাবে নিস্ক্রিয় থাকা অর্থাৎ ব্যায়াম না করা।
নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমে, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। শরীর চর্চ্চা বা ব্যায়াম করার মাধ্যমে রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে রখা সম্ভব।
মানসিক চাপ: যে সকল কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিস হয় তার মধ্যে একটি হল অত্যধিক মানসিক চাপ। পারিবারিক জটিলতা, অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল শিখুন। খুব বেশি মানসিক চাপে থাকলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাটি করুন অথবা লম্বা করে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস করুন এবং তা প্রতিনিয়ত করার চেষ্টা করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া: আমাদের দৈনন্দিন পরিশ্রমের পর পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউণ্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘুম কম হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এ কারণে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমানো উচিত।
রাতে বেশি খাওয়া: গবেষণা বলছে, রাতে বেশি খাওয়া, খাবার পর পরই ঘুমাতে যাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
নিয়ন্ত্রণ: এক বেলা পেট ভরে না খেয়ে পরিমানে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে খাওয়া দরকার।
সকালের নাস্তা না খাওয়া: সকালের নাস্তা দিনের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ডায়াবেটিস রোগী সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের রক্ত শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
নিয়ন্ত্রণ: বিশেষজ্ঞরা সকালের নাস্তায় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত ডিম, মাশরুম , টমেটোর মতো কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিকল্প মিষ্টি: ২০১৪ সালে ‘ন্যাচার’ জার্নাল একটি গবেষণা প্রকাশ করে। গবেষণায় বলা হয়, বাজারে যেসব জিরো ক্যালরি নামের বিকল্প চিনি পাওয়া যায় তার প্রায় সবগুলোতেই অতিরিক্ত সোডা পাওয়া গেছে যা রক্তে শর্করার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
নিয়ন্ত্রণ: চিনির পরিবর্তে চা বা কফিতে বিকল্প চিনি বা আর্টিফিসিয়াল সুইটনার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
চাইনিজ খাবার: চাইনিজ খাবারে রয়েছে অনেক বেশি ফ্যাট, ক্যালরি, সোডিয়াম, কার্বোহাইড্রেট। যা দেহের সুগারের মাত্রা অনেক বেশি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে অরেঞ্জ, সুইট অ্যান্ড সাওয়ার ধরণের খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।
নিয়ন্ত্রণ: প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।
চিকিৎকরা বলছেন, ডায়াবেটিসের এতো ঝুঁকি থাকার পরেও এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে তাদের অর্ধেকেরও বেশি এই রোগটি সম্পর্কে সচেতন নয়। তবে জীবন যাপনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম নীতি মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপরোল্লিখিত পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করুন।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিক :

ডায়াবেটিস রোগীরা কি কলা খেতে পারবে?
কলা অনেক পুষ্টি গুন এবং উপকারী একটা ফল৷
গবেষনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২ টা করে ১ সপ্তাহ কলা খেলে ১০ % কমে যায়৷
কিন্তু এখন প্রশ্ন হল ডায়াবেটিস রোগীরা কি কলা খেতে পারবে?
ডায়াবেটিসের রোগীদের সুগার খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু কলাতে তো ১৪ গ্রাম সুগার আছে, ৬ গ্রাম কার্ব কাছে, তাহলে কি ডায়াবেটিস রোগীরা কলা খেতে পারবে না?
উত্তর হল – ডায়াবেটিস রোগীরা কলা খেতে পারবে, কারণ কলায় প্রচুর ফাইবার আছে এবং কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স লো। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা কলা খেতে পারবে। সপ্তাহে ২-৩ টা কলা ডায়াবেটিস রোগীরা সহজেই খেতে পারেন।
খাদ্য গ্রহণের নীতি
ক. শরীরের ওজন বেশি থাকলে কমানো বা কম থাকলে বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা এবং স্বাভাবিক থাকলে সেটা বজায় রাখা।
খ. চিনি, মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দেওয়া।
গ. শর্করাবহুল খাবার কিছুটা হিসাব করে খাওয়া।
ঘ. আঁশবহুল খাবার বেশি খাওয়া।
ঙ. সম্পৃক্ত ফ্যাট কম খাওয়া এবং অসম্পৃক্ত ফ্যাট খাওয়ার অভ্যাস করা।
চ. ক্যালরিবহুল খাবার নির্দেশিত পরিমাণে খাওয়া।
ছ. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া। জ. কোনো বেলার খাবার খাওয়া বাদ না দেওয়া।
ঝ. আজ কম, কাল বেশি এভাবে না খাওয়া।

ডায়াবেটিস সারানোর উপায়:

৪টি নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে!!
ডায়াবেটিস খুব পরিচিত একটি রোগ। বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে ডায়াবেটিস। বাংলাদেশে এটি প্রায় ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কেউ যদি চারটি নিয়ম মেনে চলেন তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে।
পারিবারিক ইতিহাস, ওজন বৃদ্ধি, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ইত্যাদি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মিষ্টি বেশি খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে আর এ কারণে পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে।
  1. ডায়াবেটিস কি?
স্বাভাবিকের চেয়ে রক্তে বেশি শর্করা বা সুগার থাকলে তাকে বলা হয় ডায়াবেটিস মেলাইটাস বা সংক্ষেপে ডায়াবেটিস। বাংলায় এই রোগকেই মধুমেহ বলা হয়।
2. ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ
ডায়াবেটিস প্রধানত দুই প্রকারের। টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু। এ ছাড়াও আরও বেশ কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে।
3. টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস কী?
টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস প্রধানত কম বয়সীদের হয়। বিভিন্ন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামক হরমোনটি নির্গত হয় না। এই অবস্থায় ইনসুলিনের অভাব পূরণে ইনজেকশন দেয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। মোটামুটিভাবে সব ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ১০ শতাংশ রোগী এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।
4. টাইপ টু ডায়াবেটিস কী?
এই ধরনের ডায়াবেটিস সবচেয়ে বেশি হয়। টাইপ টু ডায়াবেটিসে বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হন। মধ্যবয়স্ক, উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি, প্রধানত পরিশ্রমবিমুখ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মানুষ এই রোগের শিকার হন। তবে আগেও বলেছি বংশানুক্রমিক ইতিহাস এবং জিনগত প্রভাবও এই রোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।
  • আসুন জেনে নেই যে ৪ নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে।
১ .স্বাস্থ্যকর ও আঁশযুক্ত খাবার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ খাবার। ফল, সবজি, বাদাম ইত্যাদির মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ আঁশ।
২. অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই অতিরিক্ত ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। উচ্চতার সঙ্গে ওজনের ভারসাম্য থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি কমবে।
৩. সুস্থ থাকতে হলে ব্যায়াম করা বিকল্প নেই। ব্যায়াম করা টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট হাঁটা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
৪. ধূমপান ইনসুলিন রেসিসটেন্স তৈরি করে। এটি ডায়াবেটিসের পূর্বাভাস। তাই ধূমপান পরিহার করুন।

প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস চিকিৎসা:

ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়। তাই ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য নানা ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি চলে যাচ্ছে৷ তবে নিয়মিত এক্সারসাইজ এবং খাবার কন্ট্রোলের বিকল্প কিছুই নেই।
তবে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলকে আরও সহজ করতে আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি চাইনিজদের ট্রাডিশনাল হারবাল বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি ডায়াবেটিস প্যাচ৷
ডায়াবেটিস প্যাচ কিভাবে কাজ করে?
হারবাল এই ডায়াবেটিস প্যাচ টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধি গাছ গাছড়া থেকে তৈরি।
মূলত এটা রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার উপর কাজ করে এবং প্যানক্রিয়াস যাতে ভালভাবে কাজ করে সেই বিষয়ে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস প্যাচ কাদের জন্য
১. যারা ইতিমধ্যে ডায়াবেটিস সমস্যায় ভুগছেন৷
২. যাদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি আছে৷ যাদের ওজন বেশি, বয়স বেশি, বংশগত ডায়াবেটিস আছে, শরীরে চর্বি বেশি এবং এক্সারসাইজ কম করেন তাদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি অনেক বেশি।
৩. কিভাবে ব্যবহার করবেন?
নাভির চারদিক ভাল করে পরিষ্কার করে নিবেন৷ এর পর প্যাকেট থেকে প্যাচটা বের করে নাভির চারদিকে লাগিয়ে দিবেন। ৮-১২ ঘন্টা রাখবেন৷ ১০-১৫ টা প্যাচ ব্যবহারের পর একটা ভাল রেজাল্ট পাবেন।
প্যাচ ব্যবহারের পর কি আমার ওষুধ বন্ধ করে দেব?
না, আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ বন্ধ করা যাবে।
ডায়াবেটিস প্যাচ কমাতে আপনাকে সহযোগিতা করবে এবং যাদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি যাদের আছে তাদের জন্য অত্যান্ত উপকারী ।
অর্ডার করতে সরাসরি কল করুন ০১৮৪২-৭৫৬০১৪
  • কিনোকি ডিটক্স ফুট প্যাডস সর্বশেষ উদ্ভাবিত ডিটক্সিফিকেশন থেরাপি।এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করে এবং টক্সিনের জন্য যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে তা কমিয়ে দেয়।
    টক্সিন হলো একধরনের বিষ, যা মানবদেহে খাবারের মাধ্যমে ও পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে প্রবেশ করে। এই টক্সিন গুলো আমাদের শরীরে জমে জমে একটা সময় ক্যান্সার , হার্ট অ্যাটাক, জন্ডিস, ডায়াবেটিস এর মত বড় রোগে পরিণত হয়। তাই আজই আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য সংগ্রহ করুন।
    কেন ব্যবহার করবেন?
    আমরা কি জানি যে, প্রতিদিন আমরা যা খাচ্ছি তা বিষাক্ত রাসায়নিক ও ফরমালিন যুক্ত ? প্রতিদিন আমরা যে প্রসাধনী ব্যবহার করছি তা কতটুকু নিরাপদ? প্রতিদিন আমাদের ব্যবহৃত মোবাইল, কম্পিউটার টেলিভিশন ইত্যাদির রেডিয়েশন আমাদের দেহে প্রবেশ করে। তাছাড়াও প্রতিদিন ধুলাবালি, পরিবেশ দূষন, ধূমপান এবং মদ্যপানের কারণে আমাদের দেহে মারাত্মক স্বাস্থ্য হানিকর পদার্থের প্রবেশ ঘটছে। এসব ক্ষতিকর উপাদান থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব একমাত্র Detox Foot Pads ব্যাবহারের মাধ্যমে।
    ডিটক্স ফুট প্যাডের উপকারিতা সমূহঃ
    ● শরীর থেকে অনাকাঙ্খিত টক্সিন দূর করে।
    ● এটি আপনার এনার্জি লেভেলকে বাড়িয়ে দেয়।
    ● এটি আপনার বিপাকক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়।
    ● রক্ত পরিষ্কার করে এবং রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।
    ● বাতের ব্যাথা, হাটু ব্যথা, কোমর ব্যথা এবং মাংসপেশীর ব্যথা কমিয়ে শরীরকে ঝরঝরে করে তোলে।
    ● ধূমপায়ীদের জন্য যারা শরীর থেকে নিকোটিন দূর করে সুস্থ থাকতে চান।
    ● বিভিন্ন ধরনের বাতের ব্যথা হতে মুক্তি মিলবে।
    ● শরীরের বিভিন্ন জ্বালা -যন্ত্রণা হতে মুক্তি মিলবে।
    ● হাটুর ব্যাথা এবং মাংসপেশির ব্যথা কমিয়ে শরীরকে ঝরঝরে করে তুলে।
    ● শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে।
    ● শরীর এর এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি করে।
    ● মাথা ব্যথা কমাতে ও মানসিক চাপ কমাতে এটি সাহায্য করে।
    ● রক্ত পরিস্কার ও রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।
    ● শরীরের ওজন হ্রাস/বৃদ্ধি ঠিক রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা যায়।
    ● শরীরের মধ্যে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় পদার্থ শোষণ করে।
    ● রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
    ● চামড়ার কালোদাগ ও কুচকানো রোধ করে।
    ● শরীর থেকে বিষাক্ত নিকোটিন বের করে।
    ● এ্যাজমা ও ব্রংকাইটিসে বিশেষ উপকারী।
    ● সাইনাসের সমস্যা দূর করে।
    ● ঘামের দূগর্ন্ধ ও পায়ের মোজার দূগর্ন্ধ দূর করে।
    ● এটি ব্যবহার করা খুবই সহজ।
    ব্যবহার বিধিঃ
    ডিটক্স প্যাডটি ঘুমানোর পূর্বে ব্যবহার করতে হবে। ডিটক্স প্যাচ ব্যবহারের পূর্বে পায়ের পাতা ভাল ভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
    একটি আঠাযুক্ত শিট (sheet) নিয়ে ধীরে ধীরে কাগজটি তুলে ফেলতে হবে এবং পায়ের তলায় লাগাতে হবে
    এটি ৬ থেকে ৮ ঘন্ট পর খুলে ফেলতে হবে।

ডায়াবেটিস কি খেলে ভালো হয়

একজন ডায়াবেটিস রোগীর মনে রাখতে হবে শৃঙ্খলাই জীবন। আর এ কারণেই একজন ডায়াবেটিস রোগী অন্য অনেকের চেয়ে সুস্থ থাকে। একজন ডায়াবেটিস রোগীর তিনটি জিনিস মেনে চলতে হয়। এক. ওষুধ, দুই. খাবার, তিন. নিয়মানুবর্তিতা। এই তিনটি জিনিস যে ডায়াবেটিস রোগী মেনে চলে তার কোনো সমস্যা তৈরি হয় না এবং তিনি সুস্থ থাকেন।
ডায়াবেটিস রোগীর খাবাার তালিকা:
সকাল: সকাল সাতটা থেকে আটার মধ্যে সকালের নাস্তা শেষ করতে হবে। সকালের নাস্তাটা দেরিতে হলেও যেন ৯.০০টার পর না যায় তা খেয়াল রাখতে হবে।
নাস্তায় আপনি রুটি/চিড়া/খই/ মুড়ি/ওটস্/ যেটা আপনার পছন্দ সেটাই নিতে পারেন। সাথে নিরামিষ আার একটা ডিম।
মধ্য সকাল: ১০.০০.থেকে ১১.০০ টার মধ্যে আপনি নিতে পারেন আপনার পছন্দমতো কোনো একটা ফল। মিষ্টি ফল হলে ১/২ কাপ পরিমাণে খাবেন।
দুপুরের খাবার: দুপুর বেলায় আপনি আপনার খাবারে পরিমানমত ভাত, মাছ/মুরগীর মাংস, শাকসবজি, সালাদ ও লেবু ইত্যাদি রাখবেন। দুপুরের খাবার হবে ১.০০ থেকে ২.০০ টার মধ্যে।
বিকালের নাস্তা: বিকালের নাস্তায় আপনি রাখতে পারেন সুপ, ছোলা, চিনি ছাড়া বিস্কুট, মিষ্টি ছাড়া পিঠা, বাদাম, মুড়ি, রং চা ইত্যাদি।
রাতের খাবার: রাতে আপনি আপনার পছন্দমতো এবং পরিমানমতো রুটি বা ভাত বা ওটস নিতে পারেন। সাথে দুপুরের মতো মাছ/মুরগী, সবজি, সালাদ, লেবু ইত্যাদি রাখতে হবে। তবে রাতের খাবারটা আপনাকে রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে।
শোবার আাগে: রাতে শোবার এক ঘণ্টা আগে এক কাপ দুধ আপনি খেয়ে নিবেন। দুধে সমস্যা থাকলে দই, ছানা পনিরও আপনি নিতে পারেন পরিমাণমতো।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে:
১. মিষ্টি জাতিয় খাবার
২. ডুবোতেলে ভাজা খাবার
৩. অতিরিক্ত তেলে রান্না করা খাবার
৪. চর্বি জাতিয় খাবার; যেমন- ডালডা, ঘি ইত্যাদি
৫. গরু, খাসী, হাঁস ও পাখির মাংস এড়িয়ে চলতে হবে
ব্যায়াম বা শরীরচর্চা:
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন শরীরচর্চা করতে হবে। যেমন- হাঁটা, সাঁতার কাটা, ব্যায়াম করা, সাইকেল চালানো, দড়ি লাফানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস থেরাপি মেশিন:

ডায়াবেটিস থেরাপি মেশিন
এই মেশিন দিয়ে আপনি আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ।যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসের জন্য নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য এই মেশিন টি খুবই উপযোগী । এই ডায়াবেটিস মেশিনটি আপনার শরীরের ইন্সুলিন তৈরি বাড়াবে।
মেশিন টি সম্পর্কে আরও জানতে সরাসরি কল করুন ০১৮৪২-৭৫৬০১৪

ডায়াবেটিস প্যাচ

ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়। তাই ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য নানা ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি চলে যাচ্ছে৷ তবে নিয়মিত এক্সারসাইজ এবং খাবার কন্ট্রোলের বিকল্প কিছুই নেই।
তবে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলকে আরও সহজ করতে আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি চাইনিজদের ট্রাডিশনাল হারবাল বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি ডায়াবেটিস প্যাচ৷
ডায়াবেটিস প্যাচ কিভাবে কাজ করে?
হারবাল এই ডায়াবেটিস প্যাচ টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধি গাছ গাছড়া থেকে তৈরি।
মূলত এটা রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার উপর কাজ করে এবং প্যানক্রিয়াস যাতে ভালভাবে কাজ করে সেই বিষয়ে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস প্যাচ কাদের জন্য
১. যারা ইতিমধ্যে ডায়াবেটিস সমস্যায় ভুগছেন৷
২. যাদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি আছে৷ যাদের ওজন বেশি, বয়স বেশি, বংশগত ডায়াবেটিস আছে, শরীরে চর্বি বেশি এবং এক্সারসাইজ কম করেন তাদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি অনেক বেশি।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
নাভির চারদিক ভাল করে পরিষ্কার করে নিবেন৷ এর পর প্যাকেট থেকে প্যাচটা বের করে নাভির চারদিকে লাগিয়ে দিবেন। ৮-১২ ঘন্টা রাখবেন৷ ১০-১৫ টা প্যাচ ব্যবহারের পর একটা ভাল রেজাল্ট পাবেন।
প্যাচ ব্যবহারের পর কি আমার ওষুধ বন্ধ করে দেব?
না, আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
ডায়াবেটিস প্যাচ ডায়াবেটিস কমাতে আপনাকে সহযোগিতা করবে এবং যাদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি আছে তাদের জন্যও অত্যান্ত উপকারী ।
অর্ডার করতে সরাসরি কল করুন ০১৮৪২-৭৫৬০১৪