মধু ও গরম পানির উপকারিতা

মধু ও গরম পানির উপকারিতা

মধু ও গরম পানির উপকারিতা

মধু খাওয়ার উপকারীতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। কিন্তু গরম পানিতে মধু দিয়ে খাওয়ার ফলে কতটুকু উপকার পাওয়া যায় তা আমাদের জানা দরকার। কারন আমরা অনেকেই হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খাই। কেও কেও এতে একটু লেবুও মিশিয়ে খায়। মধু এমন আশ্চর্য এক ওষধি গুণ সম্পন্ন উপাদান যা হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মিনারেল রয়েছে আর রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর মধু একদিকে চিনির ভালো বিকল্প। পাশাপাশি এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম এবং জিঙ্ক।

পুষ্টিবিদদের মতে, মধু হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পুষ্টিবিদরা বলেন, ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চা, কফিতে চিনির বদলে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। বেশি তাপমাত্রায় মধুর উপকারিতা কিছুটা নষ্ট হতে পারে। কিন্তু তা চিনির চেয়ে অনেক বেশি ভালো। আর কোনোমতেই ক্ষতিকর না। অর্থাৎ, পানি কত গরম থাকছে, তার ওপরেই নির্ভর করছে মধুর গুণ। চলুন এবার মধু ও গরম পানির উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেইঃ

১। বদহজম থেকে মুক্তিঃ 

প্রতিদিন সকালে যদি একগ্লাস হালকা গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বদহজম ও এসিডিটির সমস্যা থাকলে এর থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

মধু ও গরম পানির উপকারিতা

২। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

আমাদেরকে বেশিরভাগ সময় চাকরি করা বা অন্যান্য কাজে বাইরে থাকা লাগে ফলে সঠিক সময়ে আমরা খাবার খেতে পারিনা বা বাইরের খাবার খাওয়া লাগে। এতে করে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মধুতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট শরীরের ভিতরে খারাপ ব্যাকটেরিয়াদের বাঁচতে দেয় না। সেই সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই চাঙা করে তোলে যে অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণুও শরীরের ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৩। গলার ব্যথা এবং সর্দির সমস্যা কমায়ঃ

বুকে সর্দি জমে থাকার মত সমস্যা এবং হঠাৎ করে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

৪। ওজন কমাতে মধুঃ

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একগ্লাস গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন দেখবেন এতে করে অল্প কয়দিনের মধ্যে পেটের জমে থাকা মেদ কমতে শুরু করবে।

৫। হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়ঃ

নিয়মিত মধু এবং পানি মিশিয়ে খেলে শরীরে ভালো কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়ে। যা হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি শরীরকেও নানাবিধ রোগ থেকে দূরে রাখবে।

তবে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে অতি মাত্রায় গরম পানি বা দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়া মোটেও উচিত নয়। মধুর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১৪০ ডিগ্রির কম তাই যখন আপনি গরম দুধে বা পানিতে মধু মেশাবেন তখন এর উপাদানগুলো বিষাক্ত হয়ে ওঠে যা স্বাস্থ্যের জন্য  বিপজ্জনক।